[The post is written in Bengali language]
"...আমাকে খুঁজতে ভুলো না শিনপেই। মিওকে রক্ষা করবে, ঠিক আছে?"
উশিও... বলে চিৎকার দিয়ে জেগে উঠে শিনপেই। উপরের কথাগুলো তার কানে বাজছিল। এগুলো স্বপ্ন কি বাস্তব, তা এখনও বুঝে উঠতে পারেনি সে।
[২২ জুলাই]
পিতামাতার মৃত্যুর পর কোফুনে পরিবারে আলান কোফুনে আর তার দুই মেয়ে উশিও ও মিওর সাথে হিতোগাশিমা দ্বীপে তার বেড়ে উঠা। পড়ালেখা চালিয়ে যেতে টোকিওতে পাড়ি জমায় সে। উশিওর আকস্মিক মৃত্যুর খবরে দু'বছর পর প্রথমবারের মতো দ্বীপে ফেরত আসা। কোবায়াকাওয়া শিওরি নামের এক ছোট্ট মেয়েকে উদ্ধার করতে গিয়ে ডুবে মারা যায় উশিও। প্রচলিত সত্য এটি হলেও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় এসে নতুন কিছু আবিষ্কার করে শিনপেই। তার বন্ধু সু, উশিওর গলায় পাওয়া ক্ষত চিহ্নের ব্যাপারে জানায় তাকে। ক্ষতচিহ্নের কথা শুনে খুনের সম্ভাবনার কথা ভাবতে থাকে শিনপেই।
বলা বাহুল্য, সু'র পিতা হিশিগাতা সেইদু দ্বীপের একজন প্রসিদ্ধ ডাক্তার।
[২৩ জুলাই]
এদিকে দ্বীপ থেকে কোবায়াকাওয়া ফ্যামিলির সবাই হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গেলে, ঘটে যাওয়া সকল বিষয় নিয়ে মিওর সাথে আলাপ করে শিনপেই। মিও জানায়- উশিওর মৃত্যুর সাপ্তাহ খানেক আগে হুবহু উশিওর মত দেখতে এক মেয়ে উশিওকে সব জায়গায় ফলো করতো; এমনকি উশিওর মৃত্যুর একদিন আগে সে নিজেও স্বচক্ষে এটিকে দেখতে পায়।
তাদের এই আলাপচারিতার একপর্যায়ে উঠে আসে দ্বীপের পুরনো এক লোককাহিনীর কথা।
প্রচলিত আছে যে, ছায়া রোগে (শ্যাডো সিকনেস) আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের ছায়া (শ্যাডো) দেখতে পেত। আর যারাই নিজের ছায়া দেখতে পেত, তাদের মৃত্যু ছিল অবধারিত। তারা প্রত্যেকে নিজের ছায়ার দ্বারা খুন হতো। এমনকি ছায়া যার রূপ ধারণ করত, তার পরিবারের সবাইকে খুন করে ছাড়ত। পীড়িত লোকজন নিজেদের পরিশুদ্ধ করতে হিরুকো (জাপানি জেলেদের ভাগ্য দেবতা)-এর কাছে প্রার্থনার জন্য যেত।
এসব শুনে দ্বীপের উপাসনালয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তারা এমন এক ঘটনার সাক্ষী হয়, যা তাদেরকে বাকরুদ্ধ করে দেয়। শুধু তাই নয়, উক্ত ঘটনার পর শিনপেইর সাথে যা ঘটে তা ছিল শিনপেইর জন্য ব্যাখ্যাতীত।
[২২ জুলাই]
উশিওর মৃত্যুর খবর পেয়ে দু'বছর পর প্রথমবারের মতো দ্বীপে আসে শিনপেই। কিন্তু সবকিছু তার কাছে কেমন যেন দেজা ভ্যু লাগছে। এসব আগেও ঘটেছিল কি না ভেবে চিন্তায় পড়ে যায় সে। তবে যাইহোক, এবার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যে করেই হোক হিতোগাশিমা দ্বীপের অন্ধকার রহস্যের সাথে লড়াই করতঃ উশিওর শেষকথা রাখতে- মিওকে তার রক্ষা করতেই হবে। কিন্তু শিনপেই কি আর জানতো এটি করতে গিয়ে যে সে ফেঁসে গেছে ইটার্নাল হরর এবং কল্পনা ও ব্যাখ্যাতীত এক লুপের মাঝে!
Afterwords: রিলিজের টাইমে ভালো রেটিং পাওয়ার পর লিস্টে রেখেও ইগ্নোর করছিলাম মূলত এর মূল পোস্টারটি দেখে (পোস্টে সেটি ইউজ করিনি)। ভেবেছিলাম স্লাইস-লাইফ টিনএইজ ড্রামা হয়ত হবে। পরবর্তীতে নির্দিষ্ট জনরার অ্যানিমে খুঁজতে গিয়ে পুনরায় এটি সামনে আসলে এবার প্রথম এপিসোডটি ট্রাই করে দেখার সিদ্ধান্ত নেই এবং এপিসোডটি শেষ হওয়ার আগেই এতে হুকড হতে সময় লাগেনি আমার। খুবই ইন্টারেস্টিং প্লট এবং মাল্টি জনরার অ্যানিমে। মাল্টি জনরা বলার কারণ হচ্ছে- একটি অ্যানিমের মধ্যেই অ্যাকশন, ড্রামা, রোমান্স, সাইফাই, ফ্যান্টাসি, থ্রিলার, মিস্ট্রি সহ আরও সাবজনরার উপস্থিত এতে রয়েছে। প্রতিটি এপিসোডই প্লটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিধায় কোনো এপিসোড দেখার পরে মনে হয়নি এটি না বানালেও চলত। তাছাড়া এপিসোড যত সামনে এগোয় প্লট ততই আরও কমপ্লেক্স হতে থাকে ফলে, মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর কোনো উপায় নেই। কিছু জায়গায় অতিরিক্ত কমপ্লেক্সিটির কারণে মাথা আউলিয়ে যেতে পারে, যা একদম স্বাভাবিক বিষয়। তবে এতে দেখার ইনজয়মেন্টে প্রভাব ফেলবে না। কোনো না কোনো কারণে স্টোরিতে আটকে থাকতে হবে। সো ফার অ্যানিমেটি নিয়ে তেমন একটা আলোচনা দেখা যায় না। এমনকি ইউটিউবেও রিভিউ কম রিয়েকশন পোস্ট অল্পস্বল্প। যার কারণে শুনতে অবাক লাগলেও এটিকে আন্ডাররেটেড জেম বলতে বাধ্য হচ্ছি। যারা মাথা ঘোরানো টাইম-ট্রাভেল বা টাইম-লুপ কনসেপ্টের সিরিজ লাইক করেন, তাদের জন্য এটি মাস্ট ওয়াচ। আর যারা ডার্ক দেখে ভেবেছিলেন এর চেয়ে কমপ্লেক্স কিছু হতে পারে না, তারা ট্রাই করতে পারেন। তখন ডার্ককেও হয়তো আর কমপ্লেক্স মনে হবে না! কেউ যদি বলে এত প্রশংসার পর আমি নিজে সবকিছু বুঝেছি কি না, আমার উত্তর হবে- না!
21 out of 23 users liked this review